Top News

৮ দফা থেকে ২ দফা কেন বদলাল ভোটের ধরণ? ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের


কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন। আগে যেখানে রাজ্যে একাধিক দফায় ভোট নেওয়া হত, সেখানে এবার ২৯৪টি আসনে ভোট হবে মাত্র দু’দফায়। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কেন এত কম দফায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

রবিবার নির্বাচন সূচি ঘোষণা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক মূল্যায়ন করেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দফাতেই ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা পশ্চিমবঙ্গে এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেই বৈঠকে কয়েকটি বিরোধী দল কম দফায় নির্বাচন করার পক্ষে মত দেয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, অনেক দফায় ভোট হলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে যায়। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারপর্ব দীর্ঘায়িত হয়, ব্যয়ও বাড়ে। একইসঙ্গে ভোটারদের কাছেও নির্বাচন অনেক সময় ধরে চলতে থাকে।

নিরাপত্তার বিষয়তেও নজর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বড়োসড় মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৮০ ব্যাটালিয়ন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পাঠানো হয়েছে যাতে ভোটগ্রহণের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এর পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে যে সব হিংসাত্মক ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছিল এমন কিছু পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে, তাঁদের এবারের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট অফিসারদের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন আট দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় দেশে COVID-19 মহামারি চলছিল এবং নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দিকটি মাথায় রেখে দীর্ঘ সময় ধরে ভোট আয়োজন করা হয়েছিল। প্রথম দফার ভোট হয়েছিল ২৭ মার্চ এবং শেষ দফা হয়েছিল ২৯ এপ্রিল।

তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই মনে করছে নির্বাচন কমিশন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি থাকলে কম দফাতেও নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব।

কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগণনা হবে ৪ মে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে, তাই তার আগেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নির্বাচন কমিশন এবার দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দিকেই জোর দিয়েছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন