Top News

দলের জার্সিতেই ‘ডাবল গেম’! লাল কার্ডের হুঁশিয়ারি অভিষেকের

ভোটের আগে কি তবে শুধু বিরোধীরাই নয়, নিজের দলও চিন্তার কারণ? আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে এমনিতেই রাজ্য রাজনীতি তুঙ্গে, তার উপর এমন বিস্ফোরক চিন্তার  দাবি।


২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের নওদায় তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজের সমর্থনে সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’দের বিরুদ্ধে এমনই কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “দলের জার্সি পরে যারা অন্য দলের হয়ে খেলছে, তাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সময় এলেই লাল কার্ড দেখানো হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিন সরাসরি নাম না করলেও হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, তাঁকে ভোট দেওয়া মানে ‘খাল কেটে কুমির আনা’। বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পর কেন এই ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে? তাঁর অভিযোগ, অতীতে যাঁরা বাবরি ভাঙার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, হুমায়ুন একসময় তাঁদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছিলেন।

অধীর চৌধুরীকেও একযোগে আক্রমণ করেন অভিষেক। প্রশ্ন তোলেন,“আজও কেন দিল্লির বাংলো ছাড়েননি? কেন তাঁকে ইডি বা সিবিআই নোটিশ দেয় না?”এর পেছনে ‘সেটিং’-এর ইঙ্গিত দিয়ে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছেড়ে রাজ্যের নিরাপত্তা নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি।

রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। জানান, নওদায় সাড়ে সাত কোটি টাকায় নুঙ্গি ব্রিজ এবং বাস টার্মিনাস তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষক বন্ধু ও যুবসাথী প্রকল্পে মুর্শিদাবাদের বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আগামী ৫ বছরে প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক দাবি করেন, মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে তৃণমূলই একমাত্র ভরসা। ধর্মের রাজনীতির বিরুদ্ধে ‘মানব ধর্ম’-এর বার্তাও দেন তিনি।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দলের ভেতরেই যদি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র আশঙ্কা থাকে, তাহলে সংগঠনের ভিত কতটা মজবুত? দলের ভিত যদি মজবুত না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ ভরসা করবে কাকে? রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাঝে উন্নয়ন  আদৌ কতটা বাস্তবে পৌঁছচ্ছে? আর এই ‘সেটিং’-এর অভিযোগগুলো কি সত্যিই বাস্তব, নাকি ভোটের আগের কৌশলী চাল মাত্র?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন