Top News

যুদ্ধের মাঝেও স্বস্তির বার্তা—দেশে ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত, গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ কেন্দ্রের

পশ্চিম এশিয়ায় টানটান পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই—এমনটাই জানাল কেন্দ্র। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশে পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজি-র কোনও ঘাটতি নেই। বরং আগামী প্রায় দু’মাসের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।



পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের যোগান আগেই নিশ্চিত করা হয়েছে। তেল সংস্থাগুলি আগাম আমদানির চুক্তি করে রেখেছে, ফলে সরবরাহে কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, ভারত ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করছে। ফলে কোনও এক জায়গায় সমস্যা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে দেশের মোট জ্বালানি মজুত ক্ষমতা ৭৪ দিনের। তার মধ্যে প্রায় ৬০ দিনের স্টক এখন হাতে রয়েছে। এতে ক্রুড অয়েল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ—সবই অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধ পরিস্থিতির ২৭তম দিনেও এই মজুত অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, অতিরিক্ত আমদানির পরিকল্পনাও চালু আছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, দেশের সব পেট্রোল পাম্প স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে। পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ নিয়মমাফিক চলছে। এলপিজি সিলিন্ডারের যোগানেও কোনও সমস্যা নেই। বরং দেশীয় উৎপাদন বেড়ে এখন দৈনিক চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করা যাচ্ছে, ফলে আমদানির উপর নির্ভরতা কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে বড় পরিমাণ এলপিজি আমদানিও পথে রয়েছে।

পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস (PNG) নিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, এর প্রসার কোনও ঘাটতির জন্য নয়। বরং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানির দিকে এগোতেই এই উদ্যোগ।

তবে এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মন্ত্রক। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভুয়ো তথ্য বা বিভ্রান্তিকর পোস্টে কান না দিতে। শুধুমাত্র সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উপর ভরসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে কেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট—বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে, এবং আগামী মাসগুলোতেও কোনও বড় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। তাই অযথা গুজবে কান দেবেন না।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন