ধর্মের বেড়াজালে বন্দী নারী
কলকাতা ২৫ এপ্রিল :- অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে মসজিদে মুসলিম মহিলারা নামাজ পড়তে যেতে পারেন।তবে সেখানেও কিছু শর্তাবলী রয়েছে।তারা মসজিদের প্রধানদ্বার দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।পাশাপাশি এটাও জানানো হয় যে, মুসলিম মহিলারা মসজিদের প্রার্থনালয়ে যে পর্দার ব্যবস্থা রয়েছে তা সরিয়ে ফেলার দাবি করতে পারবেন না। মুসলিম নারী ও পুরুষ দের প্রার্থনার জায়গা আলাদা করা থাকবে। একসঙ্গে নারী পুরুষ প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।
এই মামলাটি মূলত সবরিমালা মামলার সাথে যুক্ত। যেখানে অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে শুনানি চলছে।সুপ্রিমকোর্ট এর ৯ বিচারপতির বেঞ্চে বোর্ড এর আইনজীবী এম আর শামসাদ জানিয়েছেন "ইসলাম ধর্মানুযায়ী মহিলাদের মসজিদে প্রবেশে বাধা নেই।তবে মসজিদে এসে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক নয়।তারা বাড়িতেও পড়তে পারেন।"
সবরিমালা মামলার প্রেক্ষিতে গঠিত নয়-সদস্যের বেঞ্চে সাংবিধানিক প্রশ্নগুলির শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি প্রশ্নের উত্তরে শামশাদ এই মন্তব্য করেন। এই শুনানি ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে কেরালার পাহাড়ি মন্দিরে নারীদের প্রবেশের বয়স-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, “বাস্তব তথ্যের স্বচ্ছতার জন্য জানতে চাই, মহিলারা কি মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন?”
এই বেঞ্চে আরও রয়েছেন বিচারপতি বি. ভি. নাগরাথ্না, এম. এম. সুন্দরেশ, আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ, অরবিন্দ কুমার, অগাস্টিন জর্জ মাসিহ, প্রসন্ন বি. ভারালে, আর. মহাদেবন এবং জয়মাল্য বাগচী।
আদালতের দেওয়া রায়টি পুনে-ভিত্তিক এক দম্পতি—ইয়াসমিন জুবের আহমেদ পিরজাদে এবং তাঁর স্বামী জুবের—দায়ের করা একটি আবেদনের ওপরও প্রভাব ফেলবে।ধর্মের বেড়াজালে মহিলারাই কি বন্দী?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন