Top News

যুদ্ধবিরতি নয়, ‘যুদ্ধের শেষ চাই’! আমেরিকাকে সাফ জানাল ইরান

যুদ্ধ থামবে, না আরও বাড়বে? সেই দোটানার মাঝেই ইরানের স্পষ্ট বার্তা—অস্থায়ী বিরতি নয়, তারা চায় একেবারে স্থায়ী সমাধান।



ইরান-আমেরিকা সংঘাতের ৩৭তম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তা খারিজ করেছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, শুধু সাময়িক শান্তি নয়, এমন সমাধানই তারা চাইছে যাতে এই সংঘাত চিরতরে শেষ হয় এবং তাদের স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষা পায়।

এই বার্তা শুধু আমেরিকাকেই নয়, পাকিস্তানকেও জানানো হয়েছে, কারণ এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা নিচ্ছে ইসলামাবাদ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও এই খবর নিশ্চিত করেছে।

এদিকে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

জবাবে ইরানও পিছিয়ে আসেনি। তারা সাফ জানিয়ে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না। এই পথটি বিশ্ব তেল পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সংঘাতের মাঝেই সামনে এসেছে এক নাটকীয় ঘটনা। ইরানের আকাশে গুলি করে নামানো একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট প্রায় একদিন লুকিয়ে থাকার পর উদ্ধার হয়েছেন। একই সময়ে আরেকটি যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়লেও তার পাইলটকেও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক চেষ্টাও চলছে জোরকদমে। ওমান ইতিমধ্যেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে। পাকিস্তান ও মিশরও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ইজরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলা বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এই সংঘাতের প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার ছাপ পড়তে শুরু করেছে। তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়বে বহু দেশের ওপর।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ আর আলোচনার টানাপোড়েনে এখন এক অস্থির সময়ের মুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিম এশিয়া। এখন দেখার, এই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন