ভবানীপুর এবার শুধু একটা কেন্দ্র নয়—এটা এখন সম্মান, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী—সমীকরণটা যতটা সরল, লড়াইটা ততটাই কঠিন।
বুধবার সকালেই কালীঘাট থেকে মিছিল করে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে চতুর্থবারের জন্য মনোনয়ন পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমায় কর্মী-সমর্থকরা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা, পাশাপাশি দলের একাধিক নেতা-কর্মী।
ভবানীপুর কেন্দ্র মমতার জন্য নতুন নয়। ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার এই কেন্দ্র থেকেই জিতেছেন তিনি। সেই বছরই রাজ্যে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তাই এই কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক দুটোই গভীর।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি বলেন, “এত মানুষকে বাদ দিয়ে পরে নাম যোগ করলে লাভ কী? আমরা আবার আদালতের দ্বারস্থ হব।”
একই সঙ্গে ভবানীপুরের মানুষদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই এই এলাকার সঙ্গে তাঁর যোগ। রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীদের জেতানোর আবেদনও করেন তিনি।
তবে এইবারের লড়াইটা সহজ নয়। এই কেন্দ্রেই প্রার্থী হয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী থাকলেও এখন তিনিই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ইতিমধ্যেই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন—নন্দীগ্রামের মতো এবারও মমতাকে হারাবেন।
গত সপ্তাহে শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়ায়, যা সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ।
২০১১-র জয়ের পর থেকে ভবানীপুরে মমতার দাপট থাকলেও, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে অল্প ব্যবধানে হারতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও পরে উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকেই রেকর্ড ব্যবধানে জিতে ফিরে আসেন তিনি।
এবার সেই দুই মুখ আবার মুখোমুখি। একদিকে আত্মবিশ্বাসী মমতা—“একজন ভোটার থাকলেও জিতব”, অন্যদিকে আক্রমণাত্মক শুভেন্দু—“আবার হারাবো”।
কিন্তু এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলো কিন্তু থেকেই যাচ্ছে—
এই লড়াই কি শুধুই দুই নেতার ক্ষমতার পরীক্ষা, নাকি সত্যিই মানুষের ভবিষ্যতের লড়াই?
ভোটের মঞ্চে কি সাধারণ মানুষের সমস্যা জায়গা পাবে, নাকি আবারও হারিয়ে যাবে স্লোগান আর পাল্টা স্লোগানের ভিড়ে?


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন