Top News

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ১৪ জন প্রার্থী নিরক্ষর ও ২৯ জন নাম সই করতে পারেন মাত্র

 

   


রাজ্য
 বিধানসভা প্রার্থীদের স্বাক্ষরতার হার

কলকাতা ১৮ ই এপ্রিল : ২০২৬ এর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে যাকে ভোট দিতে যাবেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটা জানেন কি? পশ্চিম্বঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩ শে এপ্রিল। ১৫২ টি আসনে মোট প্রার্থী ১৪৭৮। সেখানেই দেখা যায় গরমিল।১৪ জন প্রার্থী নিরক্ষর। ২৯ জন প্রার্থী নাম সই করতে পারেন। সম্প্রতি প্রার্থীরা যে হলফনামা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে, তা বিশ্লেষণ করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস।

তবে এখানেই শেষ নয়।প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা জানলে পিলে চমকানোর জোগাড়। ভোটে লড়া প্রার্থীদের মধ্যে ৩২ জন পঞ্চম শ্রেণী পাশ। ১৮০ জন অষ্টম শ্রেণি পাশ। ক্লাস টেন পাশ করে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন এবার ২৪৬ জন।

প্রথম দফার প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৪৭৫ জন প্রার্থী ৭০ টির বেশি দলের হয়ে এবার প্রতিযোগিতা করছেন।তবে বেশিরভাগেরই যে পড়াশোনা নেই, তেমন নয়। এই প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতক প্রার্থী রয়েছেন ৩৬১জন। আর স্নাতকোত্তর প্রার্থী ২২৫ জন। ডক্টরেট প্রার্থীও আছেন সেই তালিকায়। সংখ্যাটা ২০। এবারের এই প্রার্থীদের বয়সসীমার ভিত্তিতে যে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রথম দফার ভোটে ২৫-৩০ বছর বয়সি প্রার্থী রয়েছে ১০৩ জন। ৩১-৪০ বছর বয়সি ৩৪৭, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৫৩ জন প্রার্থী। ৭১-৮০ বছর বয়সিদের মধ্যে ৪৯ জন। এবং সবচেয়ে প্রবীণ ৮১-৮৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ২ জন। এবার লড়াইয়ে ১৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন ১৩০৮ জন, আর মহিলা প্রার্থী ১৬৭জন। এবার ভোটে ৪৬৬ জন নির্দল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

নির্বাচনে লড়া প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন মতামত দেখা যায়।অনেকেই মনে করেন যাদের ভোট দিয়ে তারা বিধানসভায় পাঠাবেন তাদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা দরকার। জনগণের দাবিদাওয়া বোঝা এবং সমস্যা সমাধানের মতোন দক্ষতা থাকা দরকার। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচের রাজ্য সংযোজক উজ্জয়িনী হালিম বলেন, "আসলে আমরা চাই প্রার্থীদের হলফনামার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ভোটকেন্দ্রের বাইরে ডিসপ্লে বোর্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হোক। যেখানে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতাও উল্লেখ থাকতে হবে। যাতে মানুষ ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিতে পারেন, প্রার্থীর শিক্ষা কতটা, সেইমতো বিবেচনা করতে পারেন।"

এত বিতর্কের পরে যেখানে দেশের একাধিক চাকরির ক্ষেত্রে হাজার হাজার ডিগ্রি থাকলেও তা পাওয়া যায়না।সেখানে নির্বাচনী প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন হবে তা বিচার করার মতোন মাপকাঠি আজও আমাদের দেশে মেলেনি।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন