টাটা কনসালটেন্সিতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
কলকাতা ২০ এপ্রিল :- নাসিকের এই সংস্থায় দিনের পর দিন ঘটে চলে ভয়ংকর ঘটনা। মহিলা কর্মী তার সঙ্গে ঘটা এই অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার হলে সারা দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে তাকে দিনের পর দিন যৌন হেনস্থা করা হয়। পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত স্পর্শ ও ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করা হয়।
ওই মহিলা জানিয়েছেন ২০২৫ এর ২০ ই জুন তিনি ওই সংস্থায় যোগ দেন। ২৪ শে জুন থেকে তার প্রশিক্ষণ শুরু হয় শাহরুখ কুরেশি ও অন্য এক সহকর্মীর অধীনে। সেই সময় থেকেই ঋণ বিভাগের একজন কর্মী রাজা মেমন তাকে নানারকম ব্যাক্তিগত ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন। মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হত স্বামী বাইরে থাকলে তিনি একা কিভাবে সামলান। প্রয়োজনে সাহায্য করতে পারেন বলে প্রস্থাব দেন ওই মহিলাকে।
মহিলার অভিযোগ তার ব্যাক্তিগত ও বৈবাহিক জীবন নিয়ে নানারকম কূমন্তব্য করতেন শাহরুখ ও রাজা কুরেশি। অভিযোগকারিনি কে 'প্লেয়ার' বলে ডাকতেন।
প্রশিক্ষণ শেষের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কাজে যোগ দেন ওই কর্মী। অভিযোগ, সেই সময় আসিফ আনসারি নামে অন্য এক কর্মী তাঁর কাছে ঘন ঘন আসা-যাওয়া শুরু করেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে হাত দিতেন, চেষ্টা করতেন হাত ধরার, কাঁধ বা উরুতে হাত রাখতেন, এমনকি জোর করে জড়িয়েও ধরেছিলেন একবার।
অভিযোগকারিণীর দাবি, বিবাহিত জেনেও আনসারি তাঁকে বারবার বিভিন্ন প্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন মন্তব্য করতেন। মধ্যাহ্নভোজের সময় কোনওক্রমে তাঁর পাশে বসতেন, বলতেন আপত্তিকর কথাও। বাদ যেত না ধর্ম নিয়েও কুরুচিকর মন্তব্য।
এভাবে চলতে থাকে বেশ কয়েক মাস। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মকর সংক্রান্তির সময় তাঁর শাড়ি নিয়ে কটূক্তি করা হয়। একইসঙ্গে তৌসিফ আত্তার নামে আর এক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ডেস্কে এসে খাবার দিতেন, অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন এবং অফিসের পর কাজ শেখানোর অজুহাতে শরীরের যেখানে সেখানে স্পর্শ করতেন।
২০২৬ সালের মার্চে গুড়ি পাড়োয়ার দিন রাজা মেমন পিছন থেকে তাঁর শাড়ি টেনে ধরেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শফি শেখ নামে আর এক কর্মী তাঁকে ঘিরে ঘুরতে থাকেন এবং অশোভন দৃষ্টিতে তাকান।
২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই ঘটনাগুলি ঘটে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারিণী।
চাকরি হারানোর ভয়ে প্রথম দিকে মুখ খোলেননি। কিন্তু পরে আর সহ্য করতে না পেরে তিনি আইনের দ্বারস্থ হন।ঘটনায় মূলত ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং তদন্ত শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে।
জাতীয় মহিলা কমিশন এর একটি কমিটি নির্মিত হয়েছে এই ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য। টিসিএস সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই ঘটনার প্রতিবাদে তারা কড়া নীতি গ্রহণ করেছেন। এবং অভিযুক্ত কর্মীদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন