ছবি:the savera times
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ফের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিরূধুনগর জেলার কাট্টানাপাট্টি এলাকায় একটি বাজি কারখানায় গতকাল দুপুর ৩:১৫ নাগাদ ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যার মধ্যে ১৬ জন মহিলা রয়েছেন। গুরুতর জখম অবস্থায় আরও অন্তত ৬ জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও দেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কারখানাটির ভিতরে মোট চারটি পৃথক ইউনিট ছিল। রবিবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পুরোদমে বাজি তৈরির কাজ চলছিল। দুপুর নাগাদ হঠাৎ একটি ইউনিটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বারুদ ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রাস করে ফেলে বাকি তিনটি ইউনিটকেও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দে কয়েক কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে ঘন সাদা ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।
আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, ওই বিস্ফোরণের ফলে ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। ধসে যাওয়া ওই চাঁইয়ের নীচে বেশ কয়েক জন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ চালায়।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কারখানায় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, বিরুধুনগর জেলায় এর আগেও একাধিকবার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও শিল্পাঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই ঘটনায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে.স্টালিন এক্স বার্তায় এই দুর্ঘটনাকে 'মর্মান্তিক' আখ্যা দেন এবং নিহতদের জন্য 'গভীর শোক' প্রকাশ করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন