SIR শুনানির শেষে ট্রাইবুনালের চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি সুপ্রিম কোর্টের
কলকাতা ১৭ ই এপ্রিল : বাংলায় এস আই আর মামলার পর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ট্রাইবুনালে আবেদনকারী ভোটারদের ভোট দেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা যায়। ১৩ ই এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র এই নিয়ে রায় ঘোষণা করেন। তার মন্তব্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এস আই আর মামলায় সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে এই রায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফা হবে ২৩শে এপ্রিল। এবং আগামী ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট। দুই দফার ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা আগেই ফ্রিজ হয়ে গেছে। প্রথম দফার ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা ৬ তারিখ এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ৯ এপ্রিল তালিকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এই দুদিনই ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আইন অনুসারে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন রাত বারোটা পর্যন্ত যাঁদের নাম তালিকায় থাকবে তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে বিচারাধীন ভোটারদের কি হবে?
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন প্রয়োজনে তিনি আবারও বাংলার মানুষের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা বলছি বিচারাধীন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয় এখনও পেন্ডিং রয়েছে। বিচারাধীন তালিকা ক্লিয়ার হয়নি। ১৬ লক্ষ ভোটার আবেদন করেছেন এখনও পর্যন্ত। তাঁদের ভোট দিতে দিন অন্তত।" যদিও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি শোনেনি সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, ‘এসআইআরের ট্রাইব্যুনালের উপর আমরা চাপ দিতে পারিনা, তাতে গোটা প্রক্রিয়ায় সমস্যা হবে। নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যাবে না।২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ছিল বিবেচনাধীন (আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই সব ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তির কাজ করেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে ভোটার তালিকায় নাম ফিরেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন।
ভোট দেওয়ার মতোন সাংবিধানিক অধিকার হয়তো যথেষ্ট নয়।প্রতি মুহূর্তে সাধারণ নাগরিককেই নিজেকে প্রমাণ করার জন্য লড়ে যেতে হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন