বিধানসভা ভোটের ঠিক দোরগোড়ায় বঙ্গ রাজনীতিতে বড় চমক। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু। এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা ।
![]() |
| তৃণমূলে যোগ চন্দ্র বসু |
রবিবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন ব্রাত্য বসু ও কীর্তি আজাদ। তাঁদের হাত ধরেই নতুন রাজনৈতিক পথে পা রাখলেন চন্দ্র বসু।
ভোটের ঠিক আগে এই যোগদানকে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
চন্দ্র বসুর কথায়, “কয়েক বছর আগে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আমি একটা ঐতিহাসিক ভুল করেছিলাম। আজ সেই ভুল শুধরে নিলাম।” তাঁর এই সরাসরি মন্তব্যেই স্পষ্ট—দলের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক আগেই ভেঙে গিয়েছিল।
আসলে সেই ভাঙনের শুরু এসআইআর শুনানির সময় থেকেই। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নোটিস পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছিলেন, “নেতাজির প্রপৌত্র হয়েও কি আমাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে?” এই ঘটনাই তাঁর মধ্যে বড় অসন্তোষ তৈরি করে।
পরবর্তীতে তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেই বিশ্বাস থেকেই ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর মত বদলাতে থাকে।
চন্দ্র বসুর অভিযোগ, বিজেপি দেশের সংবিধানকে মানে না এবং বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের কোনও মিল নেই। তাঁর কথায়, “এখন যে রাজনীতি চলছে, তা বিভাজনের রাজনীতি। এটা দেশের জন্য ভালো নয়।”
এই প্রেক্ষাপটে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লড়াইয়ে শামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
ভোটের ঠিক আগে এই রাজনৈতিক পালাবদল রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার। তবে একথা পরিষ্কার—এই সিদ্ধান্তে ভোটের লড়াই যে আরও জমে উঠবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন