নির্বাচনী বিধিভঙ্গ
কলকাতা ২১ এপ্রিল :- লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল খারিজ করে দিয়েছিল শুক্রবার। এটি ছিল আসলে সুকৌশলে ডিলিমিটেশন বিল আনার প্রয়াস।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠালেন দেশের ৭০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, গত ১৮ এপ্রিল সরকারি গণমাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণের নামে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণ করেছেন। যা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ চালু করার উদ্দেশ্যে মোদী সরকারের আনা সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজ হয়ে গিয়েছিল গত শুক্রবার। এর পরে শনিবার রাতে দূরদর্শন, সংসদ টিভি ও আকাশবাণীতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন মোদী। অভিযোগ, সেখানে সংরক্ষণের আড়ালে সুবিধামতো আসন পুনর্বিন্যাস ও বৃদ্ধির বিষয়টি উহ্য রেখে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ হিসাবে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তৃতার পরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ করেছিল, সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছেন তিনি। এ বার একই অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন আমলা, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক-সহ ৭০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোটের আগে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তাঁরা।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে আধ ঘণ্টার বক্তৃতায় ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম করেছেন। বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছেন।
এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার হুগলির তারকেশ্বরের জনসভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার’ বলে তোপ দেগেছেন। তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোদি নিজের দলের জন্য বেআইনি প্রচার চালাচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসও এর বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানাবে বলে জানান তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন