একটা তারিখ, দুই স্মৃতি—জন্ম আর মৃত্যু। মেয়ের মৃত্যুর সেই দিনকেই লড়াইয়ের শক্তি বানালেন এক মা। জন্ম নিল বিচারের নতুন লড়াই।
পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। শুরু হলো নতুন লড়াই। এবার রাজনীতিকেই হাতিয়ার বানিয়ে লড়াই মায়ের। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আবেগ আর উত্তেজনায় ভরে ওঠে এলাকা।
দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মিছিল করে অমরাবতী থেকে যাত্রা শুরু হয়। সোদপুর ট্রাফিক মোড় পেরিয়ে সেই মিছিল পৌঁছয় ব্যারাকপুরে। সেখানেই জমা দেন মনোনয়নপত্র। পাশে ছিলেন তাঁর স্বামীও।
কিন্তু এই লড়াই শুধু রাজনীতির নয়, এটা এক মায়ের লড়াই। ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট মেয়েকে হারিয়েছিলেন তিনি। আবার সেই ৯ তারিখই তাঁর মেয়ের জন্মদিন। তাই এই দিনকেই বেছে নিয়েছেন প্রতীকী লড়াইয়ের দিন হিসেবে।
তিনি বলেন, “এই দিনটাই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এই দিনেই আমার মেয়ের জন্ম, আর এই দিনেই ওকে হারিয়েছি।”
মিছিলের মাঝেই সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে হয় জনসভা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি এবং নেতা বিপ্লব দেব।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে প্রার্থী বলেন, “জিতব আমিই। এই জয় শুধু আমার নয়, পানিহাটির মানুষের জয়, সারা বাংলার জয়।”
মেয়ের স্মৃতিই এখন তাঁর শক্তি। তিনি বলেন, “সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় বলা যায় না। কিন্তু সেই কষ্টই আমাকে লড়াই করার সাহস দেয়।”
পানিহাটির মানুষের উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন—জিতলে এলাকার সমস্যার কথা তিনি সবার সামনে তুলে ধরবেন। একটা তারিখ, একটা স্মৃতি, আর এক মায়ের জেদ—পানিহাটির ভোট এবার শুধু ভোট নয়, একটা আবেগের লড়াই।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন