কয়েক ঘণ্টায় লোন, কোনও কাগজ লাগবে না—এই লোভেই ফাঁদে পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ। আর সেই ফাঁদ থেকেই উঠে এল কোটি কোটি টাকার বড় প্রতারণা চক্র।
অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে পার্ক স্ট্রিটে চলছিল এই জালিয়াতি। কল সেন্টার খুলে দিনের পর দিন মানুষকে ঠকানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। বুধবার রাতেই হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় মোট ৭ জনকে। ধরা পড়ে চক্রের মূল মাথাও। উদ্ধার হয়েছে ৭০টির বেশি মোবাইল। অফিসটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত শ্যামবাজারের এক পরিবারকে ঘিরে। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত এক সদস্যের চিকিৎসার জন্য জরুরি টাকার দরকার ছিল তাঁদের। সেই সময়ই অনলাইনে চোখে পড়ে একটি লোন অ্যাপ।
অ্যাপে দাবি করা হয়, কোনও নথি ছাড়াই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঋণ পাওয়া যাবে। আশায় ভর করে পরিবারের সদস্যরা সেখানে নিজেদের তথ্য জমা দেন। এরপরই শুরু হয় আসল খেলা।
ফোন করে বলা হয়, নথিতে সমস্যা আছে। তা ঠিক করতে প্রসেসিং ফি হিসেবে দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা। অসহায় অবস্থায় সেই টাকাও দিয়ে দেন তাঁরা। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও মেলেনি ঋণ।
উল্টে তাঁদের ডাকা হয় পার্ক স্ট্রিটের অফিসে। সেখানে গিয়ে জানানো হয়, ঋণ দেওয়া সম্ভব নয়। ফেরত চাওয়া হলেও দেওয়া হয়নি প্রসেসিং ফি-র টাকা।
এরপরই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই পরিবার। আর তাতেই ফাঁস হয় গোটা চক্র।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অনেকদিন ধরেই এই ভাবে প্রতারণা চালাচ্ছিল চক্রটি। ভুয়ো লোনের লোভ দেখিয়ে প্রথমে নথি সংগ্রহ, তারপর ‘সমস্যা’ দেখিয়ে টাকা নেওয়া—এটাই ছিল তাদের কৌশল।
অফিসে একাধিক তরুণ-তরুণীকে কাজেও লাগানো হয়েছিল। তাঁদের দিয়ে ফোন করিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হতো।
এইভাবে কয়েক কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যে সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে, সেগুলির তথ্য জোগাড় করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অনলাইনে সহজ লোনের লোভ—আর তাতেই সর্বনাশ। তাই সাবধান, না জেনে কোনও অ্যাপে তথ্য বা টাকা দেওয়ার আগে একবার ভেবে নিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন