যুদ্ধের ধোঁয়া এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্তেই সরাসরি ধাক্কা খেল ইরান। ৪০ দিনের যুদ্ধের পর এবার সাময়িক বিরতি, কিন্তু বিরতি থাকলেও উত্তেজনা এক বিন্দুও কমেনি। হরমুজ প্রণালী ঘিরে শুরু এবার নতুন লড়াই। ইরান বনাম ওমান।
![]() |
| ইরান বনাম ওমান, হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষ |
বুধবার রীতিমতো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল ওমান—হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া কোনও জাহাজের উপরই শুল্ক বসানো হবে না। আর এই ঘোষণাতেই বড় ধাক্কা খেল ইরান।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৪০ দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষের পর আপাতত ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছে আমেরিকা ও ইরান। এই সময় হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, শুল্ক নিয়ে তৈরি হয় নতুন জট।
ইরানের প্রস্তাব ছিল, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে শুল্ক নিয়ে সেই টাকা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হবে। কারণ, এই যুদ্ধে দেশের প্রতিরক্ষা, প্রশাসন ও সাধারণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিন্তু সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল ওমান।
ওমানের পরিবহণ মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “হরমুজে আগে কখনও শুল্ক নেওয়া হয়নি, এখনো নেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এই জলপথ ব্যবহার নিয়ে আগেই চুক্তি রয়েছে, তাই নতুন করে শুল্ক বসানো সম্ভব নয়।
এই সিদ্ধান্তের পর যুদ্ধ আবহে এই দুই দেশের মধ্যেই টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে আমেরিকার প্রভাব থাকতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, আমেরিকাকে সন্তুষ্ট করতেই ইরান থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে ওমান।
বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানির বাণিজ্য হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এখানে কোনও পরিবর্তন মানেই গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা।
এই পরিস্থিতিতে ওমান স্পষ্ট বার্তা দিল—তারা কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। অন্যদিকে, চাপে পড়ল ইরান।
হরমুজ এখন শুধু জলপথ নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন যুদ্ধক্ষেত্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন