হাইওয়েতে গাড়ি নিয়ে বেরোলে টোল প্লাজ়ার লম্বা লাইন আর যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যা। তবে এবার সেই ঝক্কি থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে চলেছে দেশবাসী। আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই জাতীয় সড়কে শুরু হতে চলেছে 'বাধাহীন' যাতায়াত। শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে এই বড় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি।
কী এই নতুন ব্যবস্থা?
নতুন এই প্রযুক্তিতে টোল প্লাজ়ায় গাড়ি থামানোর আর কোনো প্রয়োজন পড়বে না। হাইওয়েতে বসানো থাকবে অত্যাধুনিক এএনপিআর (ANPR) ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি। গাড়ি যখন টোল গেট দিয়ে যাবে, তখন এই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর প্লেট চিনে নেবে। এরপর আপনার ফাস্ট্যাগ (FASTag) অ্যাকাউন্ট থেকে নিজে থেকেই টোল কেটে নেওয়া হবে। ফলে গাড়ি না থামিয়েই আপনি গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারবেন।
কেন এই উদ্যোগ?
মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার ফলে শুধু যে সময় বাঁচবে তা নয়, সাশ্রয় হবে জ্বালানি তেলেরও। গড়কড়ির কথায়, "আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের লজিস্টিক বা পরিবহণ খরচ কমিয়ে আনা। খরচ কমলে তবেই ভারতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।" বর্তমানে ভারতের পরিবহণ খরচ ১৬ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আরও কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
নিয়ম ভাঙলে কড়া সাজা
প্রযুক্তির সুবিধা যেমন থাকছে, তেমনি থাকছে কড়া নজরদারিও। কেউ যদি টোল না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন বা নিয়ম ভাঙেন, তবে সরাসরি ই-নোটিস চলে যাবে তাঁর কাছে। সময়মতো জরিমানা না দিলে ফাস্ট্যাগ ব্লক করে দেওয়া হবে এবং কেন্দ্রের 'বাহন' পোর্টালের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিকল্প জ্বালানির বার্তা
বিদেশের ওপর তেলের নির্ভরতা কমানোর দিকেও জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে তেলের আমদানিতে বছরে প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এই বিপুল খরচ বাঁচাতে বায়ো-ফুয়েল বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
একনজরে বিশেষ তথ্য:
কবে থেকে: ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে।
প্রযুক্তি: স্মার্ট ক্যামেরা এবং এআই (AI) নির্ভর নম্বর প্লেট চেনার ব্যবস্থা।
সুবিধা: যানজট মুক্তি, সময় ও তেলের সাশ্রয়।
সতর্কবার্তা: নিয়ম ভাঙলে সরাসরি বাড়িতে পৌঁছাবে জরিমানা বা ই-নোটিস।
আগামী দিনে হাইওয়ে সফর যে আরও গতিশীল এবং আরামদায়ক হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন