![]() |
| শিল্পী রঘু রাই |
"জীবনের যে তথ্যটি ছবির মধ্য একবার ধরা দিয়েছছ সে তথ্য চিরকাল থেকে যাবে।"
-আলোক চিত্রশিল্পী রঘু রাই
আলোকচিত্রের জগতে তিনি খ্যাতনামা শিল্পী। মানুষের কথা তিনি বলেছেন ছবির মাধ্যমে। একাধারে যেমন 'ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডী'-র গল্প তিনি বলেছেন ছবির মাধ্যমে অন্য দিকে তিনিই বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের ছবির জন্য পেয়েছেন পদ্মশ্রী। ছবিতে মোরা এই জীবনকে 'লার্জার দ্যান লাইফ' ও বলা যায়। সে জীবনের ইতি হয়তো টানা হল তবে সব কাজ থেকে যাবে চিরন্তন। কথা হচ্ছে আলোকচিত্র শিল্পী রঘু রাইকে নিয়ে। আজ সকালে প্রয়াত হয়েছেন তিনি। তার পরিবার এই খবর দিয়েছে সমাজমাধ্যমে।
![]() |
| Corporate Crime সিরিজ থেকে |
রঘু রাইয়ের জন্ম ১৮ই ডিসেম্বর ১৯৪২ এ পাঞ্জাবের ঝাঙ্গ জেলায় (বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থিত)। তাঁর দাদা শরমপাল চৌধুরিকে দেখে ছবির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। ১৯৬২ সাল থেকে তাঁর দাদার কাছেই ছবি তোলায় হাতে খড়ি হয় তাঁর। ১৯৬৫ সাল থেকে 'স্টেটস্মান' দৈনিক পত্রিকার প্রধান ফটোগ্রাফার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালেই বাংলাদেশ মুক্তি যুদ্ধকে তাঁর ছবির মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। পরবর্তী কালে এই কাজের জন্য তিনি ১৯৭২ সালে পদ্মশ্রী পুরষ্কারে ভূষিত হন । এরপর ১৯৭৬ সালে 'স্টেটস্মান' ছেড়ে কলকাতার সাপ্তাহিক পত্রিকা 'সানডে'-এর সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে হেনরী কার্টিয়ার ব্রেসোঁ তাঁর কাজে মুগ্ধ হয়ে তাকে 'ম্যাগনাম ফটোস্' এ যোগদান করার প্রস্তাব দেন। এরপর ১৯৮০ সালে 'ইন্ডিয়া টুডেয়ের' সঙ্গে কাজ শুরু করেন। ১৯৮৪ তে গ্রীনপিসের হয়ে ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডীতে ভুক্ত ভুগি মানুষদের নিয়ে তিনি একটি ফটো ডকুমেন্টেশন করেন। এই ডকুমেন্টেশন তিনি নিয়ে যান ইউরোপ,উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। তিনি চেয়েছিলেন এর থেকে উপার্জিত টাকা উনি ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডীতে সমস্যায় থাকা মানুষদের মধ্যে ভাগ করে দেবেন।
এছাড়াও লিখেছেন বহু বই এবং পেয়েছেন না না পুরষ্কার।
এই কর্মময় জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় কর্মই জীবনের সবচেয়ে বড়ো অঙ্গিকার।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন