চতুর্থ বছরে এসেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের তীব্রতা একটুকুও কমেনি। শত শত মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে বড় ধরনের বিমান হামলা চলছে দুই দেশের মধ্যে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে থাকা তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় তেল ডিপোতে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ায় দিন দুয়েক আগেই মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের আবহে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হলেও সেই ছাড়পত্র আর কার্যকর হবে না।
কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এসে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় হাড়ের মেয়াদ একমাস পর্যন্ত বাড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন রাজস্ব দপ্তর থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়,আগামী ১৬ মে পর্যন্ত রুশ সমস্ত দেশকে রুশ তেল কেনার 'ছাড়পত্র' দিচ্ছে। তবে যে জাহাজগুলি তেল নিয়ে রওনা হয়েছে সেগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়ম বহাল হবে। কিন্তু ইরান, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলির সঙ্গে লেনদেনে এই ছাড় প্রযোজ্য নয়।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলেচনা চলছে এমতাবস্থায় তেলের জোগান কিভাবে স্বাভাবিক রাখা যায় সেটাই তাদের লক্ষ্য । যাদের তেলের দরকার তারা যাতে তেল পায় সেই কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প সরকারের সিদ্ধান্তে খুশি ভারত। ভারতের তেলের আমদানি ও জোগান বজায় রাখার কার্যকরী উৎস রাশিয়া।
উল্লেখ্য, ছাড়পত্র পাওয়ার পরে জাহাজে করে প্রায় ৩০ মিলিয়ান ব্যারেল রুশ তেল ভারতে এসেছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে রুশ তেল কেনার 'ছাড়পত্র'ও যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, সেটা ভারতের পক্ষে যথেষ্ট সমস্যার কারনে পরিনত হয়। তবে অতীতে ভারত যেরকম কম দামে রুশ তেল কিনেছে সেরকমটা হয়তো হবে না আর , তবে আপাতত ভারতকে স্বস্তি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রুশ তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। হয়তো বেড়ে যাওয়া চড়া দামেই ভারতকে কিনতে হবে তেল। তবে আপাতত দেশে তেলের জোগান অব্যাহত থাকবে বলেই আশা করা যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন