২৭ এপ্রিল ২০২৬, দ্বিতীয় দফা ও শেষ ভোট পর্বের আগে শেষ প্রচারে এসে ব্যারাকপুরের জগদ্দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুরু থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী।২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পরে কলকাতাকে ‘লন্ডন’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারো নাম না নিয়ে এই প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করেই প্রধানমন্ত্রী বলেন 'কলকাতাকে লন্ডন নয়, কলকাতাই তৈরি করতে হবে'।
এ দিনের সভা থেকে 'মা-মাটি-মানুষ' স্লোগান নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এ বার ভোটে এক বারও মা-মাটি-মানুষের কথা বলেনি তৃণমূল। যে স্লোগান নিয়ে সরকার গড়েছিল, আজ তাই ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছরের উন্নয়নের কোনও রিপোর্ট কার্ড দেখাতে পারেনি। মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্যেও কিছু করেনি। এবারে প্রচারে উন্নয়ন নিয়ে কিছু বলার নেই বলে, একটাই পন্থা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে।
সভায় দাঁড়িয়ে বাংলার তরুণ-তরুণীদের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তার কথা অনুযায়ী, বিজেপি সরকারে এলেই সপ্তম বেতন কমিশনের সুরক্ষা পাবেন সরকারি চাকুরিজীবীরা। স্কুলে স্কুলে কনটেন্ট ক্রিয়েশনের কোর্স, বাংলায় ১২৫ দিন রোজগারের গ্যারান্টি, মাছ ব্যবসায়ীদের রোজগার বৃদ্ধির আশ্বাস, হকারদের জন্য পি.এম স্বনিধি যোজনার ব্যবস্থার কথা ঘোষনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলায় অঙ্গ, কলিঙ্গের পরে এবারে পদ্ম ফোটার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত দিন ধরে এত গরমে প্রচার করছি, এত ভিড়, তবু আমার কোনও ক্লান্তি নেই। কেন জানেন? আসলে এটা আমার কাছে এটা তীর্থযাত্রার মতো পবিত্র। সভায় এখানকার মানুষের এত পরিমাণ সাড়া দেওয়া, সবার মনোভাব বলে দিচ্ছে, এ বার বাংলায় পরিবর্তন হবেই। ক্ষমতায় আসবে বিজেপি সরকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন