বাংলার বিধানসভা ভোটের ঠিক আগেই আরো একবার কড়া বার্তা—কোনো রকম অশান্তি চলবে না, জিরো টলারেন্স, কারোর কোনও ছাড় নেই। ২০২৬-এর West Bengal Assembly Election 2026 ঘিরে এমনটাই জানালো কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের দিন সামান্য গণ্ডগোলও কঠোরভাবে দমন করা হবে।
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে সল্টলেকে সিআরপিএফ-এর থার্ড সিগন্যাল সেন্টারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি—সব কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা একসঙ্গে বসেন। লক্ষ্য একটাই—১৫২টি আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট এবং বুথ দখল বা ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনা সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত—‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। অর্থাৎ, কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে নিরাপত্তা আরও শক্ত করা হচ্ছে। রাজ্যের বিশেষ পুলিশ কো-অর্ডিনেটর শলভ মাথুরও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন পরিকল্পনায় সব বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা উপদেষ্টারা সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য কুইক রেসপন্স টিম তৈরি রাখা হয়েছে, যাতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
![]() |
| ছবি সূত্র: ইন্টারনেট |
ভোটের নজরদারিতেও আসছে এবার নতুন কৌশল। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোন দিয়ে নজর রাখা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় নিয়মিত রুট মার্চ এবং তল্লাশি চালানো হবে। শুধু নিচুতলার ফোর্স নয়, সিনিয়র অফিসাররাও সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
সিআইএসএফ-এর ডিজি প্রবীর রঞ্জন বাহিনীর সদস্যদের স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁদের কাজ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, গণতন্ত্রকেও সুরক্ষিত রাখা।
তবে এই কড়াকড়ি ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নেত্রী মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটের আগে এভাবে সব বাহিনীর প্রধানদের একসঙ্গে বৈঠক বিরল এবং এতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
এই বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য একটাই—স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
সব মিলিয়ে এবার ভোটে একথা স্পষ্ট, এবারের ভোট হবে কড়া, নিরাপত্তা নিয়ে কোনরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন