ছবির উৎস: ইন্টারনেট
কলকাতা, ১৯ই এপ্রিল: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বিশৃংখল ইসরাইল ইরান এবং আমেরিকার সংঘাতে গোটা বিশ্বজুড়ে গোলযোগ তৈরি হয়েছে। আর এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বলি হতে হতে অল্পের জন্য রক্ষা পেল ভারতের দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ। গতকাল হরমুজ প্রণালীতে ঢোকার আগেই দুটি জাহাজের ওপর গুলিবর্ষণ করে ইরানি নৌসেনা।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স’-এর প্রকাশ করা একটি অডিও ক্লিপে সেই মুহূর্তের ভয়াবহতা ধরা পড়েছে। ভারতের ‘সানমার হেরাল্ড’ নামক অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটির একজন ক্রু মেম্বারকে মরিয়া হয়ে ইরানি নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে শোনা যায়। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের সেই অডিওতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল জাহাজের নাবিকদের অসহায়তা ও বিভ্রান্তি।
বিশ্বের মধ্যে মোট খনিজ তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশই আসে এই হরমুজ প্রণালী থেকে অতএব হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ করে রাখা মানেই অর্থনীতির বাজারকে হাতের মুঠোয় করে নেওয়া। ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইরান প্রথমে জানিয়েছিল তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত করে দেবে। তবে শনিবারই নিজের কথা থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়ে ভারতীয় নৌজাহাজে গুলিবর্ষণ করে, সাথে সাথেই যুদ্ধবিরতিও উলঙ্ঘন করে।
জাহাজে হামলার খবর জানাজানি হতেই সারা বিশ্বজুড়ে গোলযোগ শুরু হয়ে যায়। সূত্রে জানা গেছে, জাহাজের কোনো নাবিকেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং দুটি জাহাজই অক্ষত রয়েছে। তবে এরপর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে কিছুটা ভয়ে আছে।
একেই অত্যাধিক গ্যাসের দাম তাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে বিশ্বের লোক একটু শান্তির নিঃশ্বাসই ফেলেছিল বিশ্বের লোক। তবে শনিবার যুদ্ধবিরতি লংঘন করার ফলে আবার বাড়তে পারে গ্যাস এবং খনিজ তেলের দাম।
ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের অনেকটা অংশই এই হরমুজ প্রণালীর পথ দিয়ে আমদানি করে। এই বাড়ন্ত গরমে আকাশছোঁয়া তেলের দামে কিভাবে জীবনযাপন করবে সাধারণ জনগণ? নাবিকদের নিরাপত্তারই বা কি হবে? সব নিয়েই চিন্তায় হয়েছে সরকার। বিশ্বের তেলের যোগানকারী এই পথের কি পরিণতি হবে সেই দিয়েই তাকিয়ে গোটা দুনিয়া।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন