ভরদুপুরবেলা বজবজ- সন্তোষপুর এলাকায় ঘটে গেল ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি ঝুপড়ি বস্তিতে ছড়িয়ে পড়েছে আগুন, সমস্তটাই পুড়ে শেষ। আগুন নেভাতে আশপাশের মানুষ বালতি করে জল ছুঁড়তে থাকে।
শনিবার দুপুর ১ টা ৪০ নাগাদ আগুন লাগতে দেখা যায় মহেশতলা- সন্তোষপুর স্টেশন চত্বরে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশেপাশে এলাকার বস্তি সহ স্টেশানে ওভারহেট তারে আগুন লেগে যায় যার ফলে বজবজ থেকে শিয়ালদহ ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলে খবর দেওয়া হলেও অনেক্ষন দমকলের দেখা মেলে না। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভাতে বালতি করে জল ছুঁড়তে থাকেন, তাঁরা ক্ষোভ উগড়ে দেন স্থানীয় প্রশাসনের উপর।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ভাত খাচ্ছিলাম তখনই চোখে পরে আগুনের গোলা বেরতে বেরতেই সব শেষ। ২৯ তারিখ ভোট দেব যে কিন্তু আঁধার কার্ড, ভোটার কার্ড সমস্তটাই পুড়ে শেষ শুধুমাত্র নিজেকেই বাঁচাতে পেরেছি। এবার ভোট চাইতে আসুক…একটা প্রোটেকশন দিতে পারে না। এখনো পর্যন্ত দুটো দমকলের গাড়ি এসে পৌঁছেছে তার মধ্যে একটাতে জল আছে একটাতে নেই। একজন তো আগুন দেখে পুকুরে লাফ মেরেছেন তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একজনের গায়ে ট্রনের তার পড়ে তার চামড়া পুড়ে গেছে।
একজন ঝুপড়িবাসী বলেন, একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন । এছাড়া স্থানীয় অনেক বাচ্চা নিখোঁজ চারিদিকে ধোঁয়ার কারণে তাদের দেখা যাচ্ছে না মানুষজন বুঝতে পারছেন না তারা কোথায় আছে।
মহেশতলার সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে ঝুপড়িবাসীর সমস্তকিছু আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে, মহিলারা হাউহাউ করে কাঁদছেন ,মানুষজন ছোটাছুটি করছেন ,তখন প্রশাসনের কোনও দেখা নেই।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শুভাশিস দাস বলেন, আমরা এখানে থেকে মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি । কীভাবে আগুন লেগেছে তাই এখন জানা যায়নি, তবে অনুমান করা হচ্ছে শট-সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, আগুনের ভিতর কেউ আটকে নেই। এখনও পর্যন্ত দমকলের দুটো ইঞ্জিন এসেছে। আরও গাড়ি আসছে। তবে বিশাল আগুন লেগেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন