কলকাতায় নির্বাচনপূর্বে ইডির ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার মধ্যে কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তীব্র তল্লাশি চালাচ্ছে। একসঙ্গে শহরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এই অভিযান শুরু হয়েছে, যা রাজনৈতিক ক্যাম্পে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তি হলো আর্থিক ও অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং অনিয়মিত সম্পত্তি অর্জন।
ইডির একাধিক দল প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং রাজ্যের শাসক দলে তৃনমূল নেতাদের বাসভবন ও কার্যালয়ে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছে। ভোরবেলা থেকে চলমান এই অভিযানে তদন্তকারীরা নথিপত্র, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং লেনদেনের রেকর্ড পরীক্ষা করছেন।
সংস্থার সূত্র জানাচ্ছে, এটি খাঁটি তদন্তভিত্তিক এবং নির্দিষ্ট তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিরোধী দলগুলো এটাকে “নির্বাচনী চাপের কৌশল” বলে অভিহিত করেছে, যার উদ্দেশ্য ভোটের আগে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো।
শাসক ক্যাম্পের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে, আইন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। সাধারণ জনগণের কিছু অংশও বিশ্বাস করে, এ ধরনের অভিযান স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক, যদিও নির্বাচনের সময়কালে এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনপূর্বে এমন কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে এবং ভোটারদের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করতে পারে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং এর পরিণতি নিয়ে সবার নজর কেন্দ্রীভূত।
শুক্রবার সকালে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার-এর বাড়ি ও একাধিক কার্যালয়ে হানা দেয় আয়কর দফতর। মনোহরপুকুর রোডের বাসভবন ও নির্বাচনী কার্যালয়ের পাশাপাশি মতিলাল নেহরু রোডের অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই জোড়া অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উল্লেখ্য, মতিলাল নেহরু রোডের কার্যালয়টি বর্তমানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-এর নির্বাচনী কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
দক্ষিণ কালীঘাট-এ তৃণমূল নেতা কুমার সাহা-র বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। তিনি দেবাশিস কুমার-এর ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে এই অভিযান চলছে।
একই সঙ্গে সল্টলেক-সহ মোট ৫টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় কুমার সাহার বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মীরা ইডির বিপক্ষে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে ।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন