নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী বা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের নিয়োগ করা হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি ছিল, এটি নজিরবিহীন এবং এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের অপমান করা হচ্ছে। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও তৃণমূলের এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়েছিলেন, কমিশনের এই সিদ্ধান্তে বেআইনি কিছু নেই।
এদিন তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মীরা থাকলেও সুপারভাইজার পদে কেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের রাখা হবে না? তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য প্রশাসনের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করতেই কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সওয়াল শোনার পর শীর্ষ আদালত জানায়:
ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে কার নিয়োগ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের হলেও গণনার সময় তাঁরা কমিশনের অধীনে কাজ করবেন। এছাড়া গণনার টেবিলে সব রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা উপস্থিত থাকবেন, যা স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।
কমিশন আদালতকে জানায়, গত ১৩ এপ্রিলের সার্কুলার অনুযায়ী তারা কাজ করছে যেখানে রাজ্য মনোনীত ব্যক্তিও প্রক্রিয়ায় থাকতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, কমিশন যেন তাদের নিজস্ব নিয়ম ও সার্কুলার অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
আগামী সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে কমিশনের জন্য রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেল। রাজ্য জুড়ে কড়া নিরাপত্তায় এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নজরদারিতেই হবে ভাগ্য নির্ধারণ।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন