Top News

মহারাজা তোমারে সেলাম। সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে তার কর্ম বন্দনা

বাঙালীর সিনেমা প্রেমের ভ্যালেন্টাইন্স ডে বললেও চলে। বাঙালীর সিনেমাকে যিনি বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন, আজ তাঁর জন্মদিন। সত্যজিৎ রায়ের নাম শুনলেই যেমন চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফেলু মিত্তির, তোপসে এবং জটায়ু, অন্যদিকে তেমনই প্রফেশর শঙ্কু, তারিনী খুঁড়ো সহ আরো না না কলাকুশলিরা। বলাই বাহুল্য কলা ভবনের পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিলেত গিয়ে সিনেমাকে ভালোবাসা সবটাই যেন কেমন বাস্তব হয়েও স্বপ্নের মতন। বিশ্ব জোড়া খ্যাতির আড়ালে রয়েছে বহু স্ক্রিপ্টের খসরা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম। 'পথের পাঁচালী' বা 'গুপী গায়েন বাঘা বায়েন' যেমন পরিচিতির দরজা খুলে দিয়েছিল তেমনই বহু ছবি রয়েছে যা নিয়ে কথা না বললে যেন সত্যজিৎ বন্দনা শেষ হয়না। তাহলে দেখে নেওয়া যাক।
দেবী ( ১৯৬০) দয়াময়ী সতেরো বছরের গৃহবধু। তার শ্বশুর মশাই কালিকীঙ্কর রায় অত্যন্ত ধর্মভিরু এক ব্যক্তি। তিনি স্বপ্নে দেখেন তাঁর ছোট বৌমা দয়াময়ী মা কালীর মানব অবতার‌। শুরু হয় দয়াময়ীকে দেবী করে পুজো করা‌। দয়াময়ীর চরিত্রে শর্মিলা ঠাকুর, কালিকীঙ্করের চরিত্রে ছবি বিশ্বাস এবং উমাপ্রসাদের চরিত্রে অভিনয় করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ছবিটি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের রচিত 'দেবী' ছোট গল্পের চলচ্চিত্র অনুবাদ। ছবিটি ততকালিন সমাজের কাছে একেবারেই গ।রহণ যোগ্য হয়নি। সত্যজিৎ রায় এই ছবিটির মাধ্যমে মানুষের ধর্মান্ধতা এবং ধর্মীয় কুসংস্কারকে যেমন আঘাত করেছেন তেমন বাংলার নব জাগরণের ছবিও দেখিয়েছেন এই এক ছবির মাধ্যমে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে রায় হিন্দু ধর্মকে অসম্যান করছেন কিন্তু মন দিয়ে দেখলে বোঝা যায় এক নারীর মানবিক সত্ত্বা কেড়ে নিয়ে তাকে দেবী রূপে পুজো করলে তার পরিনাম কি হতে পারে।
চারুলতা(১৯৬৪) চারুর( মাধবী মুখার্জি) দিন কাটে একা একাই সেলাই করে বই পড়ে। তার স্বামী ভূপতি( শৈলেন মুখার্জি) ব্যস্ত নিজের ছাপাখানার কাজ এবং ইউরোপীয় রাজনীতি নিয়ে। এমন অবস্থায় তাদের বাড়িতে আসে ভূপতির এক ভাই , নাম অমল( সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়)। অমল আসার পর চারুর একাকিত্বে কাটা জীবন এক লহমায় বদলে যায়। বিদেশীদের কাছে 'ধীর' হওয়া সত্ত্বেও বহু বাঙালির কাছেই ভীষণ হৃদয়স্পর্ষী এক কাহিনী। রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' কহিনীর অনুবাদ এই ছবিতে রয়েছে নারী মনের গভীর আকাঙ্খার কথা। নারী তখন আস্তে আস্তে নিজের ভেতরে সংস্কার কাটিয়ে এগিয়ে আসছে নব জাগরণের পথে। তারা লিখছে, বই পড়ছে আবার দুপুর বেলা না ঘুমিয়ে ভাবছেও। বঙ্কিমেচন্দ্রর প্রতি শ্রদ্ধাও সত্যজিৎ রায় জ্ঞাপন করেছেন এই ছবির মাধ্যমে।
জন অরণ্য (১৯৭৫) সোমনাথ( প্রদীপ মুখার্জি) কলেজ পাস করে চাকরির সন্ধান করছে। এমন সময় তার কাছে ব্যবসা করার প্রস্তাব আসে। ব্যবসায় সে নামে ঠিকই তবে দালাল হিসেবে। এরকমই এক বড়ো মাপের অর্ডার নিয়ে তার জীবনে সমস্যা শুরু হয়। ছবিটি ১৯৭০ এর বাঙলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিক। একাধারে যেমন চাকরি হীনতা অন্যদিকে তেমনই মানুষের মধ্যে রোজগারের তাগীদ। সভ্যতার খিদেতে হারিয়ে যাচ্ছে তরুণ তরুণিরা। এই কাহিনীতে আদর্শের প্রশ্নটিও রয়েছে। ছবিটিতে উৎপল দত্ত, রবি ঘোষ এবং সন্তোষ দত্তর মতন না না কলাকুশলিরা। নতুন প্রজন্মের কাছে এ যেন এক প্রস্তুতির মতন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন