Top News

গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কড়া নজরদারি: কলকাতায় জারি ১৬৩ ধারা, কী কী থাকছে এই নজরদারিতে?

ভোটের ময়দানের লড়াই শেষ, এখন শুধু ফলের অপেক্ষা। কিন্তু সোমবার গণনার সকালে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠার আগেই কলকাতা পুলিশ বড়সড় পদক্ষেপ নিল। শহরজুড়ে যে ৭টি জায়গায় ভোটগণনা হবে, তার ২০০ মিটারের মধ্যে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। 



অর্থাৎ, সোমবার ভোর ৫টা থেকেই গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে সাধারণের অবাধ যাতায়াত বা জমায়েতে পড়ছে আইনি তালা। কড়া পাহারায় মুড়ে ফেলা হয়েছে নেতাজি ইন্ডোর থেকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল— রাজপথ এখন যেন এক দুর্ভেদ্য দুর্গ!

৫ জনের বেশি জমায়েত করলেই বিপদ!

পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে ৫ জন বা তার বেশি মানুষ একসঙ্গে দাঁড়ালেই তা বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে। কোনও মিছিল, মিটিং বা বিক্ষোভ তো দূরের কথা, পকেটে আতশবাজি বা লাঠি নিয়ে ঘুরলেও আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই— গণনা যাতে শান্তিতে মেটে।

ছবি: এআই 


ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার বেষ্টনী:

শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রেই থাকছে টানটান উত্তেজনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে তিন ধাপে:

প্রথম স্তর: গণনাকেন্দ্রের একদম বাইরে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা থাকবে যানচলাচল মুক্ত। এখানে মোতায়েন থাকবে রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ।

দ্বিতীয় স্তর: মূল গেট ও তার আশেপাশের অংশে থাকবে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ প্রহরা।

তৃতীয় স্তর: ইভিএম রাখা স্ট্রংরুম এবং গণনাকক্ষ পাহারা দেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। তল্লাশি ছাড়া কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

ভিতরে কারা থাকতে পারবেন?

সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হবে। কাউন্টিং রুমে রিটার্নিং অফিসার, প্রার্থী এবং তাঁদের নির্দিষ্ট করা এজেন্ট ছাড়া আর কারও প্রবেশাধিকার নেই। এমনকি সঙ্গে রাখা যাবে না মোবাইল ফোন বা অন্য কোনও গ্যাজেট।

কমিশনের কড়া বার্তা:

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। কমিশনের দাবি, নিরাপত্তার কোনও ফাঁক রাখা হচ্ছে না। ইভিএমের সিল পরীক্ষা থেকে শুরু করে রাউন্ড অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণা— সবটাই হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে।

সোমবার কি শান্তিতেই কাটবে দিনটি? আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন