আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। আর সেই দিনটির গুরুত্ব বুঝে, যাতে কোথাও কোনো রকম গণ্ডগোল বা কারচুপি না হয় তা রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে বিজেপি। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনার হার-জিতের খতিয়ান এবার সরাসরি পৌঁছে যাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে। বাংলার ২৯৪টি আসনে ঠিক কী ঘটছে, তা নিয়ে দিল্লি থেকে নজর রাখবেন তিনি।
![]() |
| ছবি: উইকিপিডিয়া |
পুরো পরিকল্পনা একনজরে:
কলকাতায় হাই-প্রোফাইল কন্ট্রোল রুম: ভোট গণনার গতিপ্রকৃতি নজরে রাখতে সল্টলেক পার্টি অফিসে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম তৈরি করেছে বিজেপি। সেখান থেকেই সারা রাজ্যের খবর সংগ্রহ করা হবে।
মাঠে থাকছেন কেন্দ্রীয় নেতারা: গণনার দিন কলকাতায় উপস্থিত থাকছেন বিজেপির দুই প্রধান কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশল ও ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁরা মিনিট টু মিনিটস রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠাবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বর্তমানে কলকাতায় থেকে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
এজেন্টদের জন্য কড়া গাইডলাইন: গণনাকেন্দ্রের ভেতর সামান্যতম ভুল যাতে না হয়, তার জন্য কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাউন্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো এজেন্ট কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না। বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে গেলে দ্রুত সেখানে বিকল্প কাউকে বসাতে হবে।
কেন এই প্রস্তুতি?
বিজেপি নেতৃত্ব এবার বাংলার ফল নিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না। শিলিগুড়ি, মালদহ এবং কলকাতায় দফায় দফায় বৈঠকের পর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে ঠিক হয়েছে—প্রতিটি টেবিলে কড়া নজরদারি চলবে। যদি কোনো গণনা কেন্দ্রে সন্দেহজনক কিছু দেখা যায়, তবে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার থেকেই জেলা স্তরে এজেন্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হচ্ছে।
এর পাশাপাশি কলকাতায় ডেরা বেঁধেছেন নিত্যানন্দ রাই,
ভোট মিটে গেলেও বাংলা ছাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে তিনি কলকাতাতেই রয়েছেন।
দলের নির্দেশ স্পষ্ট—মাথা ঠান্ডা রেখে লড়াই করতে হবে এবং কোনো প্রকার প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না। সব মিলিয়ে ৪ মে-র ফলাফল নিয়ে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন