উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বুধবার রাতের দুঃসাহসিক গুলিকাণ্ডে নিহত হলেন শুভেন্দু অধিকারী-এর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথ বর্তমানে মধ্যমগ্রামে থাকতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি তাঁর বিভিন্ন সংগঠনিক কাজের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। বুধবার রাতে কাজের সূত্রে মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।
অভিযোগ, মাঝরাস্তায় মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় তাঁর গাড়ি আটকে দেয় দুষ্কৃতীরা। বাইকে করে এসে গাড়ির কাচ ভেদ করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিগুলি চন্দ্রনাথের মাথা ও শরীরে লাগে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তিনি। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হামলাকারীরা একটি নম্বরপ্লেটবিহীন বাইকে করে এসেছিল। ঘটনার পর দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায় তারা। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যার কাচে স্পষ্ট তিনটি বুলেটের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ফরেন্সিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত দুষ্কৃতীদের পরিচয় স্পষ্ট নয় এবং কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হামলাটি পরিকল্পিত। ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, রাজনৈতিক হিংসা ক্রমশ বাড়ছে। যদিও শাসকদল জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালানোর ঘটনা এলাকায় আগে খুব একটা ঘটেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন