Top News

ইরান-মার্কিনের চুক্তির আভাস। কি বললেন‌ ট্রাম্প

আজকের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক খবর হলো ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে (শুক্রবার, ২৪ জুলাই থেকে), আর সেই সুবাদে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ‘ভালোভাবে’ এগোচ্ছে এবং একটি চুক্তি হওয়ার ‘শুভ সম্ভাবনা’ রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়েছেন—আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার আগের মতো সামরিক অভিযান শুরু করবে। অন্যদিকে, ইরান এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। এই বিরতির মধ্যেই আজ হোয়াইট হাউসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক—মুখোমুখি হচ্ছেন ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যেখানে ইরান, লেবানন ও আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ ছাড়াও তুরস্ককে F-35 বিক্রি নিয়ে মতপার্থক্য আলোচনায় উঠবে। প্রসঙ্গত, গত ১১ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ রাত বিমান হামলা চালায়, আর ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। এই লড়াইয়ে জর্ডান ও ইরাকে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, আর প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়—যা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ট্রাম্প যদিও আশাবাদী যে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হতে পারে, কিন্তু ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘যেকোনো আগ্রাসনের’ জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছে, ফলে এই শান্তি কতটা টেকসই—তা এখনই নিশ্চিত নয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এখনো বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্ববাণিজ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আজকের ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের ফলাফলের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে আলোচনার গতিপথ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি আসলে একটি ‘কৌশলগত বিরতি’ মাত্র—হয়তো এটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে, নয়তো আবারও শুরু হবে নতুন করে সংঘাতের দ্বিতীয় অধ্যায়। তাই এখন দেখার বিষয়, ইরান কি আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে, নাকি ট্রাম্প তাঁর হুশিয়ারি অনুযায়ী আবার সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন